মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কুয়েত তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন শনিবার (০৭ মার্চ) থেকে তেল উৎপাদন কমানো শুরু করেছে। একই কারণে এর আগে ইরাক ও কাতারও তেল ও গ্যাস উৎপাদন কমিয়েছে।
রোববার (০৮ মার্চ) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক নোটিসে বলা হয়েছে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে কুয়েত অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ও পরিশোধন কার্যক্রম কমানোর পর কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। তবে উৎপাদন কতটা কমানো হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছিল।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের সরাসরি হুমকি, কুয়েতে ইরানের ধারাবাহিক হামলা এবং পারস্য উপসাগরে তেল পরিবহনের জন্য জাহাজের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি—এই পরিস্থিতির কারণেই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, এটি মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন আবার বাড়ানো হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে টানা অষ্টম দিনের মতো তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মজুদ তেল শেষ হয়ে গেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকেও শিগগির উৎপাদন কমাতে হতে পারে।
এমএ//