যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। বুধবার (২২ এপ্রিল) পেন্টাগন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের মতো করেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজ নির্মাণ কার্যক্রম দ্রুত করার সংস্কার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধই তার অপসারণের মূল কারণ।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, তার ডেপুটি স্টিভ ফেইনবার্গ এবং নৌবাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হাং কাওয়ের সঙ্গে ফেলানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। এই মতবিরোধ ক্রমে বাড়তে থাকায় নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়। বর্তমানে হাং কাও ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
এছাড়া ফেলানের বিরুদ্ধে একটি নৈতিকতা সংক্রান্ত তদন্তও চলমান ছিল বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এটিই প্রথমবার কোনো মনোনীত সার্ভিস সেক্রেটারিকে বরখাস্তের ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পেন্টাগনে নেতৃত্ব পর্যায়ে অস্থিরতা বাড়ছে। এর আগে যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যানসহ একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চলতি মাসের শুরুতে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই অপসারণ করা হয়।
এদিকে মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যাক রিড এই সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলারই প্রতিফলন।
এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, এই চাপের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনায় আনা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এখন বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে ১৮টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১৬টি সহায়ক জাহাজ নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ উদ্যোগের অংশ।
সূত্র: রয়টার্স
এসি//