রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি পাঁচ ঘণ্টা পরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বাসটি পদ্মা নদীর গভীরে পল্টুনের নিচে তলিয়ে থাকায় উদ্ধারকাজে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। বাসের উপরের অংশ প্রায় ৫০ ফুট পানির নিচে এবং নিচের অংশ আরও প্রায় ১০ ফুট গভীরে রয়েছে। বাসটির এক পাশে রশি লাগানো হয়েছে, অন্য পাশেও রশি লাগানোর চেষ্টা চলছে। এরপর সেটিকে টেনে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বাসটি নদীতে পড়ার সময় ৬-৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এছাড়া আরও চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী থাকতে পারে। বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এবং তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি পন্টুনে জোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
এদিকে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ডুবুরি দল। ফরিদপুর ও আরিচা থেকে দুটি ইউনিট ইতোমধ্যে কাজ করছে, আর ঢাকার সিদ্দিকবাজার থেকেও আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে।
নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএ//