তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে যেন শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় রাজনৈতিক আধিপত্যের মাঝে এবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ থালাপতি বিজয়। কয়েকদিনের টানটান রাজনৈতিক নাটক, জোট-সমীকরণ আর সংখ্যার হিসাব-নিকাশের পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সির পথে বড় বাধা কাটিয়ে উঠেছে তার দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজগম’ (টিভিকে)। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে যখন 'বিদুথলাই চিরুথাইগাল কাচি' (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) বিজয়কে তাদের নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। জোটের আসনসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১২০-এ, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সীমা অতিক্রম করেছে।
এই সমর্থনের মাধ্যমে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছে। এর ফলে রাজ্যে প্রথমবারের মতো অ-দ্রাবিড় মূলধারার কোনো জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। পরে কংগ্রেসের পাঁচজন এবং বাম দল সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর চারজন বিধায়কের সমর্থনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭-তে। তবে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ মেলে ভিসিকের দুই বিধায়কের আনুষ্ঠানিক সমর্থনে। এতে বিজয় শিবিরের মোট সমর্থন পৌঁছে গেছে ১১৯-এ, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেছে।
এর ফলে তামিলনাড়ুতে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠনের পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ নেয়ার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।

ভিসিকে ও আইইউএমএল—দুই দলেরই রয়েছে দুটি করে বিধায়ক। তাদের সমর্থন যুক্ত হওয়ার ফলে নির্বাচনের পর যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। টিভিকে সদর দপ্তরে এই খবর পৌঁছাতেই শুরু হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
এর আগে ভিসিকে পক্ষ থেকে রাজ্যপাল আর.এন. রবির কাছে পাঠানো সমর্থনপত্রে জানানো হয়, তামিলনাড়ুর জন্য একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করতেই তারা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দিচ্ছে। থল থিরুমাভালাভানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে দলের দুই বিধায়কের অবস্থানও নিশ্চিত করা হয় এবং স্পষ্ট করা হয়, এই সমর্থন সম্পূর্ণ নিঃশর্ত।
এখন জোটের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সব বিধায়কের সমর্থনপত্র একত্র করে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানো হবে। এরপর রাজ্যপাল আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
সূত্রের দাবি, ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান কোনো শর্ত ছাড়াই এই সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে সরকার গঠনের পথে থাকা প্রায় সব জটিলতা ইতিমধ্যেই দূর হয়ে গেছে।
এদিকে খুব শিগগিরই বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিধায়কদের সমর্থনপত্র একত্রে জমা দিয়ে সরকার গঠনের দাবি উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। রাজ্যপাল আগেই জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক লিখিত সমর্থন পেলে তিনি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন।
ভিসিকের এই সমর্থন শুধু বিজয়ের সরকার গঠনের পথই প্রশস্ত করেনি, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত কয়েক দশক ধরে প্রভাব বিস্তারকারী ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ঐতিহ্যগত আধিপত্যের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, এই প্রথমবার তামিলনাড়ুতে মূলধারার দ্রাবিড় রাজনীতির বাইরে নতুন এক রাজনৈতিক শক্তির হাতে ক্ষমতা যাওয়ার ইতিহাস তৈরি হতে পারে।
এসি//