যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসী হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান। ফলে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। বুধবার (২৫ মার্চ) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের রুট লক্ষ্য করে হামলা হওয়ায় তারা তেলের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
তারা আরও জানায়, ইরান-সংঘাতের অবসান হলে তুলনামূলক দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে এবং তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরে আসা যেতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে, ১০ মার্চ কুয়েত তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ব্যারেলে নামিয়ে আনে, যা সংঘাত শুরুর আগে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে এই বিঘ্নের প্রভাব বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএ//