আন্তর্জাতিক

ফের হরমুজ প্রণালিতে দুই ইরানি ট্যাংকারে মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরও দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (০৯ মে) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের বন্দর অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

এর আগে রাতভর হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান তাদের লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এসব ঘটনার ফলে এক মাস আগে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনো দাবি করছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব’ পাওয়ার আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে—যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, শুক্রবার যেসব ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো অবরোধ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে এবং পাল্টা হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখিয়েছে, যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়ে ইরানি ট্যাংকার দুটির ধোঁয়ার চিমনি লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই আরেকটি ইরানি ট্যাংকারের রাডার ব্যবস্থা গুলি করে অচল করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন হামলাকে ‘শত্রুতামূলক সামরিক পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।’

ইরানের বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের মার্কিন হামলায় একটি কার্গো জাহাজে আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত একজন নাবিক নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। 

তবে আক্রান্ত জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হওয়া ওই দুই ট্যাংকারের একটি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে সমঝোতায় না আসে, তাহলে আবারও পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে ‘দিনরাত যোগাযোগ’ রাখছে ইসলামাবাদ।

সূত্র: এপি

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #হরমুজ প্রণালি #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র