পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে। শনিবার (০৯ মে) কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি।
রাজ্যের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং এনডিএ ও বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসাকে ঘিরে এই অনুষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তারা হলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর পর্যায়ক্রমে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। তবে এখনো কার ভাগ্যে কোন দপ্তর যাচ্ছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গত ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পদে কে আসবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা থাকলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার ইঙ্গিত দিয়েছিল, বাংলার মাটি ও বাংলাভাষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত কোনো নেতাকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠক শেষে অমিত শাহ জানান, প্রস্তাবিত সব নামের মধ্যে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর নামই উঠে আসে এবং দ্বিতীয় কোনো নাম প্রস্তাব করা হয়নি।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলে রাজ্যের ভোটাররা বিজেপির পক্ষেই রায় দেন। সেই রায়ের ধারাবাহিকতায় শনিবারের শপথগ্রহণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বিজেপি সরকারের পথচলা।
সূত্র: আনন্দবাজার
এসি//