আন্তর্জাতিক

সৌদি যুবরাজ আমার পেছন পেছন ঘুরছে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান “তার পেছন পেছন ঘুরছেন” এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে সৌদি সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বার্ষিক ফোরামে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গও আলোচনায় ছিল, যার প্রভাব সৌদি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনাতেও পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যে ট্রাম্প সৌদি আরবের ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, “আমি সৌদি আরবের রাজাকে ভালোবাসি। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ। আমি যখন সেখানে গিয়েছিলাম, আমাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, একবার রাজা তাকে ওঠার সময় হাত ধরে সাহায্য করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, “তারা বলেছিল, তিনি এর আগে কখনো কাউকে এভাবে ধরেননি। আমি বলেছিলাম, মনে হয় তিনি আমাকে পছন্দ করেন। তিনি সত্যিই আমাকে পছন্দ করতেন, এখনো করেন। তিনি খুব ভালো মানুষ, আর তার ছেলেও চমৎকার।” 

এরপর মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ক্রাউন প্রিন্স এক বছর আগে তাকে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র “মৃতপ্রায় দেশ”, কিন্তু এখন এটি “বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ”।

ট্রাম্প বলেন, “তিনি ভাবেননি এটা ঘটবে। তিনি ভাবেননি যে তাকে আমার পেছনে ঘুরতে হবে… তিনি ভেবেছিলেন আমি আরেকজন ব্যর্থ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হবো, যার সময়ে দেশ নিচের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এখন তাকে আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করতেই হচ্ছে।”

এর আগে ট্রাম্প এ সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “তিনি একজন যোদ্ধা। তিনি আমাদের সঙ্গে লড়াই করছেন।”

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক অভিযানে অব্যাহত থাকার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এটিকে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের একটি “ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে দেখেছেন।

সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজের ধারণা ইরানের বর্তমান সরকারকে সরাতে হলে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই একমাত্র পথ হতে পারে।

তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নয় রিয়াদ।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সবসময়ই সংঘাত শুরুর আগ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতিতে অটল থাকবে।

সূত্র: আরটি

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ডোনাল্ড ট্রাম্প #সৌদি যুবরাজ #মোহাম্মদ বিন সালমান