ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে না এলে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৫ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ তাদের জন্য খুবই খারাপ হবে। তারা আলোচনায় না এলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেব।’
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ।
ট্রাম্প দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন আলোচকরা ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে বার্তা দিয়েছেন, ‘চুক্তি করুন, না হলে আপনাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তার এ মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথা জানান ট্রাম্প। পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা যায়।
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বামপুর ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাত সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। তবে কুয়েত ও বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এমএ//