শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছে সেমিফাইনালেই। স্পেনের কাছে ২-০ গোলের পরাজয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। মাঠে হতাশার ছাপ ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পেদের চোখেমুখে। তবে এই পরাজয়েও জাতীয় দলের প্রতি আস্থা হারাননি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বরং তরুণ এই দলকে ঘিরেই ভবিষ্যতের নতুন আশা দেখছেন তিনি।
ডালাসে সেমিফাইনাল শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে অভিনন্দন জানান ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে দেশের জার্সির মর্যাদা রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া ফরাসি ফুটবলারদেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ম্যাক্রোঁ লেখেন, ‘যোগ্য দল হিসেবে ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে অভিনন্দন। দেশের জার্সির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য ‘লে ব্লুজ’দের ধন্যবাদ। আজকের পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন। তবে এই দলটি এখনো তরুণ, আর তাদের সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের ছন্দে খেলেছে স্পেন। গোটা টুর্নামেন্টে গোল করার ক্ষেত্রে যে দুর্বলতার কথা বারবার আলোচনায় এসেছে, সেমিফাইনালে তার কোনো ছাপই দেখা যায়নি। বরং শক্ত রক্ষণ, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে পুরো ম্যাচজুড়েই ফ্রান্সকে চাপে রেখেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় স্পেন। ডি-বক্সের ভেতরে লামিন ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। এরপর দানি ওলমোর দুর্দান্ত থ্রু-পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো। রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই জায়গাতেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।
এই জয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। এখন দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তাদের সামনে আর মাত্র একটি বাধা। আগামী রোববার নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর বিপক্ষে শিরোপার শেষ লড়াইয়ে মাঠে নামবে স্প্যানিশরা।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেও ফ্রান্সকে নিয়ে হতাশার চেয়ে আশার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। সেই আশার সবচেয়ে বড় প্রতিফলনই যেন ফুটে উঠেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের বার্তায়। পরাজয়ের কষ্ট আছে, কিন্তু সামনে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার বিশ্বাসও হারাচ্ছে না ফরাসিরা।
এসি//