আন্তর্জাতিক

৩ সপ্তাহ ধরে সাগরে নিখোঁজ ৫৩০ রোহিঙ্গা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা দুটি নৌকায় থাকা প্রায় ৫৩০ জন রোহিঙ্গা তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, উত্তাল সমুদ্রে নৌকা দুটি ডুবে গিয়ে অধিকাংশ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল ২৯ জুন রাখাইনের সিন তেত মাও এলাকা থেকে পৃথক সময়ে দুটি নৌকা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। একটি সকালে এবং অন্যটি রাত্রে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া জানান, বর্ষা মৌসুমের উত্তাল সমুদ্রে পুরোনো মাছ ধরার ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি। তার ধারণা, একটি নৌকা যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবং অন্যটি কয়েক দিন পর ডুবে যায়।

এদিকে বাংলাদেশের উপকূলে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাবতী বদ্বীপ ও মোন অঙ্গরাজ্যের মধ্যবর্তী সাগর এলাকায় জেলেরা আরও কয়েকটি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। এসব ঘটনাকে সম্ভাব্য নৌকাডুবির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। সীমিত মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থানের সংকট, নিরাপত্তাহীনতা এবং চলাচলের বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে রাখাইনে বসবাসরত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গাও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সামরিক জান্তা তাদের জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গাদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিকে নিরাপদ গন্তব্য মনে করে অনেক রোহিঙ্গা মানবপাচারকারীদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াজুড়ে সক্রিয় এসব চক্র জনপ্রতি প্রায় তিন হাজার মার্কিন ডলার আদায় করে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ছেড়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরির আহ্বান জানালেও, সংকট মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #রোহিঙ্গা #মালয়েশিয়া #মিয়ানমার