আন্তর্জাতিক

বাগদাদে মার্কিন নারী সাংবাদিক অপহৃত

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ইরাকের রাজধানীতে এক বিদেশি সাংবাদিক অপহরণের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপরই অপহৃতকে উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী জোর তৎপরতা শুরু করেছে।

বাগদাদ-এ শেলি কিটলসন নামের এক মার্কিন নারী সাংবাদিককে অপহরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রথমে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন নারী সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তার পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু জানায়নি। পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত শেলি কিটলসন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

তিনি মূলত রোম-এ বসবাস করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছেন। তার লেখা আল-মনিটর-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সাধারণ পোশাকে থাকা চার ব্যক্তি শেলিকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা বাগদাদের পূর্ব দিকে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই অপহরণের বিষয়ে অবগত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারী মন্ত্রী ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তারা অপহৃত সাংবাদিককে দ্রুত উদ্ধারে এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরাক ভ্রমণের ঝুঁকির বিষয়ে ওই ব্যক্তিকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। মার্কিন নাগরিকদের কোনো অবস্থাতেই ইরাক ভ্রমণ না করার পরামর্শও পুনরায় মনে করিয়ে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইরাকে বিদেশি নাগরিক অপহরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত রুশ শিক্ষার্থী মিলিশিয়াদের হাতে অপহৃত হয়েছিলেন, যাকে ২০২৫ সালে দীর্ঘ সময় পর মুক্তি দেওয়া হয়। কিটলসনের অপহরণের ঘটনায় দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরাক #মার্কিন নারী সাংবাদিক #অপহরণ