মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ভেতরে গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এমনটাই দাবি করছে পশ্চিমা ও ইরানি সূত্র।
বুধবার (১৩ মে) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন বলা হয়, মার্চের শেষ দিকে সৌদি ভূখণ্ডে হওয়া হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সৌদি বিমান বাহিনী অংশ নেয় বলে জানা গেলেও কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এ দাবি সত্য হয়ে থাকে তাহলে এটিই হবে ইরানের মাটিতে সৌদি আরবের প্রথম সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ। এ ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে রিয়াদ আগের তুলনায় আরও কড়া অবস্থানে যাচ্ছে।
যদিও হামলার বিষয়ে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে নীরব থাকেন। একইভাবে ইরানও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত প্রকাশ্যে যতটা দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে তার পরিধি আরও বড়।
তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের কৌশলে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি আরব একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার পর সৌদি আরব তেহরানকে আরও পাল্টা পদক্ষেপের সতর্কবার্তা দেয়। পরে উভয় পক্ষ উত্তেজনা কমাতে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আগেই এই সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের তথ্য বলছে, মার্চের ২৫ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত সৌদি আরবের দিকে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে এপ্রিলের শুরুতে সেই হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
পশ্চিমা সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধবিরতির আগে সৌদির ওপর হওয়া বেশিরভাগ হামলা সরাসরি ইরান থেকে নয়, ইরাকের ভেতর থেকে চালানো হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছিল।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। এরপর থেকে ইয়েমেন ইস্যুতেও তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
এমএ//