হবিগঞ্জের মনতলা এলাকায় তেলবাহী একটি ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ টানা ১৩ ঘণ্টা ধরে বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (০১ এপ্রিল) রাত থেকে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনটির পাঁচটি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে রেলওয়ের রিলিফ ট্রেন।
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও। ইতোমধ্যে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ও ‘কালনী এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রামমুখী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’-এর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোশাররফ মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের কিছু মানুষ ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহের চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগিগুলো সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আখাউড়া রেলওয়ের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। তবে কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মনতলা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান গনি বলেন, রেলের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং বিকেলের মধ্যে আংশিকভাবে রেল চলাচল চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইন বা পাশের কোনো সেতুর দুর্বলতা থেকে এই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ট্রেনটি মনতলা স্টেশন পার হয়ে শাহপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করেই পাঁচটি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হয়। এতে বগি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজিবি ছড়িয়ে পড়া তেল জব্দ করে।
এসি//