মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ইরানের হাতে কোনো কার্ড নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখছে। ইরানের নেতারা এখনও বেঁচে আছে শুধু আলোচনার জন্য।’
এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানে চলমান আলোচনায় যদি অগ্রগতি না হয়, তাহলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আবারও হামলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, খুব দ্রুতই—প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
আসন্ন এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জারেড কুশনার।
আলোচনার সম্ভাব্য এজেন্ডায় রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানের প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ। এর বিপরীতে ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক।
তবে ইরান এখনই আলোচনায় বসতে রাজি নয়।
পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ এক্সে দেয়া এক বার্তায় বলেন, আলোচনার আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেয়া। তার মতে, এই শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরুই সম্ভব নয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ব্যাংকে থাকা তেল ও গ্যাস রপ্তানির বিপুল অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না, যা দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে।
চুক্তি আদৌ সম্ভব কিনা—এ নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ইরান একদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের আশ্বাস দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কথা বলছে, ফলে তাদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এখনো আশাবাদী। মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে।
এসি//