ইরাকে অবস্থানরত ইরানপন্থি একটি শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতার তথ্য দিলে বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই তথ্যের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি মার্কিন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস প্রোগ্রাম-এর আওতায় এই ঘোষণা দেয়া হয়। এতে হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সরাজির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ‘কাতায়িব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা’ (কেএসএস) নামের একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি ওয়াশিংটনের। যুক্তরাষ্ট্র এই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ অনুযায়ী, এই কেএসএস সদস্যরা ইরাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং দেশটিতে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একাধিক আক্রমণ চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনা ঘাঁটি এবং সেনাদের লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলার পেছনেও এই গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরান-সমর্থিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাকের শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই এই ধরনের মিলিশিয়া সদস্যরা সংগঠিত হয় এবং তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নির্দেশনায় কাজ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সরাজির তথ্যের জন্য এই বিশাল পুরস্কার ঘোষণা মূলত ইরাকের ভেতরে ইরান-সমর্থিত নেটওয়ার্ক দুর্বল করা এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব শনাক্ত করার কৌশল। এতে করে ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাকে গ্রেপ্তার বা নিরস্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং হামলা প্রতিরোধে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও পুরস্কার ও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসি//