রাজধানী

দিনের বেলায় রাজধানীতে নেমে এলো রাত, মুষলধারে বৃষ্টি

বায়ান্ন প্রতিবেদন

দুপুরের ব্যস্ত শহর। রাস্তাজুড়ে মানুষের ছুটে চলা, যানবাহনের শব্দ আর ঈদের ছুটির আগের শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়া। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন বদলে গেল রাজধানীর চেনা দৃশ্য। দিনের আলোর মাঝেই নেমে এলো রাতের আবহ। ঘন কালো মেঘ ঢেকে ফেলল পুরো আকাশ, আর মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হলো বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১২টার পর থেকেই ঢাকার আকাশে জমতে থাকে ভারী মেঘ। ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে দিনের স্বাভাবিক আলো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। এরপর শুরু হয় প্রবল বর্ষণ, সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া।

ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন। তবে যারা এখনো কর্মব্যস্ততায় ঢাকায় রয়েছেন, হঠাৎ এই বৃষ্টিতে তারাই পড়েছেন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। কোথাও গাড়ির ধীরগতি, কোথাও আবার হাঁটুসমান পানি জমে থমকে যায় চলাচল।

নিউমার্কেট, মিরপুর, মালিবাগ, মৌচাক, বাড্ডা ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। ছাতা ছাড়া বের হওয়া মানুষজন হঠাৎ বৃষ্টিতে আশ্রয় নিয়েছেন ফুটওভার ব্রিজের নিচে, দোকানের ছাউনিতে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে। অনেককে ভিজে কাপড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে ঝড়-বৃষ্টির সময় দমকা হাওয়ার গতি বেড়ে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে দেশের নৌপথেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. সালাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, দুপুরের পর নদী এলাকায় দমকা ও ঝড়ো বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একই কারণে সদরঘাটেও সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রার আগে অনেক যাত্রীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

হঠাৎ নেমে আসা এই কালো মেঘ আর প্রবল বর্ষণ যেন এক বিকেলে রাজধানীকে বদলে দিয়েছে পুরোপুরি। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও থেমে থাকা যানবাহন, আবার কোথাও বৃষ্টিভেজা মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ঈদের আগের ব্যস্ত নগরী যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য আটকে পড়েছিল বর্ষার দখলে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বৃষ্টি #রাজধানী