দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টাইর শহরের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আটজন।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের টাইর শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার কিছুক্ষণ আগেই শহরটির বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের শারকিয়েহ এলাকায় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আবারও হামলার মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় তাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় দুই উদ্ধারকর্মীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা জরুরি সেবা ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, গেল ২ মার্চ লেবাননে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
কফার রেমান শহরের আল-মারজ এলাকায় ভোরের ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে নাবাতিয়েহ, কফার সির, সির আল-গারবিয়া সংলগ্ন এলাকা এবং জেবশিত শহরে বিমান ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। আল-মানসুরি ও মাজদাল জুন শহরের উপকণ্ঠেও কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাইর শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেন।
তিনি দাবি করেন, টাইরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় হিজবুল্লাহর সদস্যদের তৎপরতার কারণে সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হবে।
তবে লেবাননের পক্ষ থেকে এসব হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এমএ//