আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রথম পর্ব শেষ, ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া নতুন দফার আলোচনার প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, বৈঠকে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ আলোচনা এগিয়ে নিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে উভয় পক্ষ একটি রূপরেখা তৈরিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, বিশেষ করে লেবাননের চলমান সংকট এবং সংঘাত নিরসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ বৈঠকগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে।

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর পাশাপাশি লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সহিংসতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে কাতার ও পাকিস্তান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও লেবাননের পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (হিজবুল্লাহ) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, হুমকি বা চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা যাবে না। দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুই দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যার উদ্দেশ্য ছিল চলমান উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ভিত্তি তৈরি করা। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে সামনে থাকবে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র