ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল ইরান। তবে, কিয়েভের পক্ষ থেকে ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ আসার পর সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই জানান, ইউক্রেনে হামলার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে অভিযান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তার দাবি, কোনো ‘শত্রুভাবাপন্ন’ যুদ্ধজাহাজ যদি নির্ধারিত পথ এড়িয়ে অন্য কোনো রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
রেজাই জানান, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এর আগে, গেল ২৫ জুলাই ইরান অভিযোগ করে যে, ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ওই ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন।
এরপর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাকে জানান, হামলার ঘটনায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য কিয়েভকে তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
পরে আরাঘচি জানান, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানি জাহাজে হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ইউক্রেন কোনোভাবেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চায় না।
এমএ//