তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হয়ে কাঁধের ক্ষত দেখিয়ে যশোরের কেশবপুরে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বিরল প্রজাতির একটি কালোমুখ হনুমান। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড়সংলগ্ন আলফা মেডিক্যাল স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে আহত হনুমানটিকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, খাবারের সন্ধানে বের হওয়া হনুমানটি কাঁধে আঘাত নিয়ে ত্রিমোহিনী মোড় এলাকায় এসে একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। স্থানীয়রা বিভিন্ন ধরনের খাবার দিলেও প্রথমে সেটি কিছুই খায়নি। পরে সাংবাদিক এম এ রহমান একটি রুটি দিলে হনুমানটি তার কাঁধে উঠে হাত দিয়ে নিজের ক্ষতস্থানের দিকে ইঙ্গিত করতে থাকে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে এম এ রহমান হনুমানটিকে পাশের আলফা মেডিক্যাল স্টোরে নিয়ে যান। সেখানে ওষুধ কিনে তার কাঁধের ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে হনুমানটি সেখান থেকে চলে যায়।
এম এ রহমান জানান, তিনি হনুমানটিকে রুটি দিয়ে আশ্বস্ত করেন যে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এরপরই হনুমানটি তার ঘাড়ে উঠে কাঁধের ক্ষতস্থান দেখাতে থাকে। পরে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, কেশবপুরের কালোমুখ হনুমান সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যে খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। খাদ্যের অভাবে খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় অনেক হনুমান আহত হয়। খাদ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী কালোমুখ হনুমান সংরক্ষণে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
এসি//