সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্ত্রী প্রবাসে যাওয়ায় তিন সন্তানসহ কীটনাশক পান করেন সরফত আলী (৩৫) নামে এক ব্যাক্তি। এ ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই বাবাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত শিশুরা হলো, রজনীলাইন গ্রামের সরফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।
স্থানীয়রা জানায়, সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। শুক্রবার রাতে সরফত আলী তার তিন সন্তানকে নিয়ে বসতঘরে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি তিন সন্তানসহ কীটনাশক পান করেন।
বিষপানের পর সরফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তার এক ফুফুকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান এবং কোনো দাবি না রাখতে বলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার ফুফু বাড়িতে থাকা সরফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলীকে খবর দেন। পরে রহমত আলীসহ পরিবারের লোকজন দ্রুত সরফত আলীর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন।
পরে স্থানীয়রা তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। সরফত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আর/আই