দেশজুড়ে

অপহরণের পর ধর্ষণ, হাসপাতালে ছাত্রীর মৃত্যু

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর বিষপানে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে মো সোহেল (২৫) ও মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার ঝেচুপাড়া গ্রামে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই স্কুলছাত্রী পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী পঞ্চগড় সদর উপজেলার শালমারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সোহেল তাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব ও প্রেম নিবেদন করে আসছিল। একপর্যায়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ও তার সহযোগীরা কৌশলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। আসামিদের হুমকি ও মানসিক চাপের কারণে গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ভুক্তভোগী বাড়িতে কীটনাশক জাতীয় বিষ পান করে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার  রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বড় ভাই বলেন, আমার ছোট বোনকে কৌশলে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে এবং আসামিদের হুমকির মুখে সে বাধ্য হয়ে বিষপান করেছিল। আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি, যেন আর কোনো বোনের জীবন এভাবে নষ্ট না হয়

 

ওসি আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পঞ্চগড় #স্কুলছাত্রী