দেশজুড়ে

সিম বিক্রির আড়ালে নগদ অ্যাকাউন্ট, তিন ব্র্যান্ড প্রোমোটার আটক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় সিম বিক্রির আড়ালে গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগে তিন ব্র্যান্ড প্রোমোটারকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। আটক তিনজন হলেন—ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা আবু নাইয়ান নাহিদ, রবিউল ইসলাম এবং পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকার ওমর ফারুক বাবু।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে বন্দরপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০ টাকায় রবি ও সার্কেলের সিম বিক্রি করছিলেন তারা। সিম দেওয়ার সময় অন্তত ৫০০ মানুষের মূল এনআইডি কার্ডের তথ্য নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়। পরে সিম কেনার পর গ্রাহকদের নগদ অ্যাকাউন্ট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জানতে রবি ও সার্কেলের ব্র্যান্ড প্রোমোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা পঞ্চগড়ে নেই বলে জানান। পরে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ সিম কেনার কথা বলে আবার তাদের খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রোমোটাররা নিজেদের অবস্থান পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকায় জানালে সেখান থেকে তাদের আটক করে বন্দরপাড়ায় নিয়ে আসা হয়।

ভুক্তভোগী রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘১০ টাকায় তারা সিম দিচ্ছিল। সেই সাথে আমাদের ফিঙ্গার প্রিন্টও নেয়। ওরা চলে যাওয়ার পরেই আমাদের নগদ একাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। কোন সিম দিয়ে তারা নতুন একাউন্ট করেছে আমরা জানি না। অনেকের একাউন্টে টাকা ছিলো সেগুলো তুলে নিয়েছে তারা। সিম বিক্রির আড়ালে তারা গোপনে নগদ একাউন্ট করে আমাদের বিপদে ফেলেছে।’

আরেক ভুক্তভোগী শাহপরান বলেন, ‘ওরা রবি ও সারকেলের গাড়িতে এসেছে। আমরা ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখ মুখের ছবি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলে এখানে টাওয়ার হবে। পরে সবার বাড়ি থেকেই খবর আসে নগদ বিকাশ একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। এই একাউন্টের সব তথ্য তাদের কাছে। আমরা কিছুই জানি না। কোন অঘটন হলে এর দায় কে নেবে?’

কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, ‘এটি নব্য অনলাইন প্রতারণা। তারা আমার এলাকার সহজ সরল মানুষদের ঝুঁকিতে ফেলেছে। সিম বিক্রির আড়ালে নগদ একাউন্ট করে নেয়ায় মাধ্যমে তাদের বড় প্রতারণার পরিকল্পনা ছিলো। এই চক্রের মূল হোতাদের ধরতে হবে। সেই সাথে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষেরা যেন বিপদে না পড়ে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যে কোন অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পঞ্চগড় #প্রতারণা