আন্তর্জাতিক

ভারতসহ ১০ দেশকে কঠোর শাস্তি দেবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের বাণিজ্যিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি বিল পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয় ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম নিষেধাজ্ঞা আইন’। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের পর এখন এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য যাবে। ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হবে।

আইনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়াকে সহায়তা করছে—এমন দেশগুলো এই শুল্কের আওতায় আসতে পারে।

এই তালিকায় ভারত ও চীনের পাশাপাশি তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এসব দেশের পণ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়নি। আইন কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রেসিডেন্ট ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

বিলটির পেছনে মূল যুক্তি হলো, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রুশ জ্বালানি খাতের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু এরপরও কয়েকটি দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কিনে আসছে। ওয়াশিংটনের যুক্তি, এসব জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা করছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কয়েক বছর বাড়ানোর বিধানও রয়েছে।

বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছিলেন তিনি। সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পরপরই গ্রাহামের মৃত্যু হয়। পরে তাঁর নামেই আইনটির নামকরণ করা হয় ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম নিষেধাজ্ঞা আইন’।

এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ওপর নির্ভর করছে বিলটির চূড়ান্ত আইনি কার্যকারিতা। এরপর রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর নতুন করে বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ পাবে ওয়াশিংটন।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #রাশিয়া #যুক্তরাষ্ট্র #বাণিজ্যিক চাপ #শুল্ক