আন্তর্জাতিক

এবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: এআই ছবি

মহাকাশের কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে বলে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স। তবে সেখানে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বিবৃতিতে মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানান, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে কক্ষপথে ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ মোতায়েন রয়েছে।

স্পেস কন্ট্রোলের আওতায় মহাকাশে প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এগুলো আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় ভূমিকায় ব্যবহারের উপযোগী।

সোমবার অনুষ্ঠিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্কও মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে রাশিয়া ও চীনের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেছে স্পেস ফোর্স। তাদের দাবি, দুই দেশই মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করছে।

স্পেস ফোর্স জানায়, চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের সমালোচনা করেছে চীন। দেশটি ওয়াশিংটনকে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মহাকাশে সামরিক তৎপরতা বাড়ানো থেকে বিরত থাকা। একই সঙ্গে তিনি মহাকাশকে ঘিরে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, মহাকাশে সামরিক কার্যক্রম এবারই নতুন নয়। মহাকাশ গবেষণার শুরুর দিক থেকেই সেখানে অস্ত্র মোতায়েন ও সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।

১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’তে সই করে। চুক্তিটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন ঠেকানো।

তবে চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারত মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সামরিক যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারির জন্য ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ধ্বংস করার সক্ষমতাও রয়েছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #মহাকাশ যুদ্ধ #যুক্তরাষ্ট্র #যুক্তরাষ্ট্র স্পেস ফোর্স