সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়। কারণ তখন সুদনির্ভর বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তবে এবার চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর পরও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে বছরের শেষ দিকে আরও এক দফা সুদহার বাড়তে পারে—ফেডের এমন ইঙ্গিতও বিশ্লেষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৯৫ দশমিক ২৬ ডলারে।
এর আগে বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩২৮ দশমিক ৩৯ ডলারে উঠেছিল। তবে দিনের পরের দিকে দাম দ্রুত কমে প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এক দিন পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
তবে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারেও চলছে দরপতন। সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। আগের দরপতনের সঙ্গে যোগ হয়ে এতে তেলের বাজারে নিম্নমুখী চাপ আরও বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং মনে করেন, এখন স্বর্ণের দামের জন্য তেলের বাজারের গতিপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তেলের দাম যদি মাঝারি মেয়াদে কমতে থাকে, তাহলে তা স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে তেলের দরপতন দীর্ঘস্থায়ী না হলে স্বর্ণের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে।
তিনি বলেন, স্বর্ণের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাজারের কারিগরি অবস্থানেরও প্রভাব রয়েছে। ফেডের কঠোর নীতির বার্তা এরই মধ্যে অনেকটাই বাজারদরে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদহার বাড়লে সুদ থেকে আয় করা যায়—এমন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। এতে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমার আশঙ্কা থাকে।
বুধবার সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও একবার সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ফেড। সর্বশেষ ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই বছরের শেষ নাগাদ অন্তত আরও এক দফা শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি দুজন বর্তমান সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের। তবে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ফেডারেল রিজার্ভের মতো সুদহার বাড়ানোর পথে যাবে কি না, তা নিয়ে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান কাছাকাছি বলে তিনি আশা করছেন। দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা জোরদার করেছে। পাল্টা সৌদি শহরগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি যোদ্ধারাও।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট বাজারে রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৭৩ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৮৩ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২৯৬ দশমিক ৭০ ডলার।