কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করা চীনা নাগরিক তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী চীনা নাগরিক আন হংওয়েই দাবি করেছেন, তার স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন প্রতারণার মাধ্যমে ৪ হাজার মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের খোঁজে চীনা নাগরিক আন হংওয়েই তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ওইদিন রাতে রাতে ফুলবাড়ী থানায় যান আন হংওয়েই। তবে ঘটনার স্থান ঢাকার সাভার হওয়ায় পুলিশ তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান নাঈম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকায় অবস্থানরত মোর্শেদার এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চীনা নাগরিককে বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন মোর্শেদা। পরে পূর্বপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনি চাকরি পরিবর্তন করেন এবং ওই যুবককে বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মোর্শেদা ঐ আত্মীয়কে জানিয়েছিলেন, প্রথম স্বামী খুবই গরীব। তাই তাকে বাদ দিয়ে চীনা নাগরিককে বিয়ে করেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে মোর্শেদা বেগম (২৬) প্রায় ১০ বছর আগে একই এলাকার দিনমজুর আবুল গহুরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে বর্তমানে ৮ বছর বয়সী এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসের পর পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
পরে মোর্শেদা বেগম ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরিরত অবস্থায় চীনা নাগরিক আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর চীনা স্বামীকে নিয়ে গ্রামে এলে তাকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এলাকায়।

মোর্শেদার প্রথম স্বামী আব্দুল গহুর অভিযোগ করেন, সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে মোর্শেদা তাকে ও তাদের ছোট কন্যা সন্তানকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
আব্দুল গহুর বলেন, “সে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়েছে। এমনকি বাড়িতে আসার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আর ফেরেনি। এখন আবার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন চেষ্টা করছে।”
ধর্মপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস ইসলাম বলেন, “প্রথম স্বামী ও সন্তানকে রেখে মোর্শেদা চীনা নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। তখন ধারণা ছিল হয়তো তিনি প্রতারণার শিকার হবেন। এখন উল্টো অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবে কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। পরপর দুই স্বামীকে ছেড়ে আবার বিয়ে করা নিন্দনীয়’’।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মোর্শেদার বিভিন্ন নাম্বারে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসি মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঘটনাটি ঢাকার সাভার এলাকায় ঘটেছে। তাই অভিযোগকারীকে সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি, তবে ইশারার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।
আই/এ