চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার চেনামতি এলাকায় মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত দশ দিনের মধ্যে শেষ করে একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাওনা টাকার লিখিত স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশেই মা ও মেয়েকে হত্যা করেন প্রতিবেশী তেজ বড়ুয়া।
আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টায় নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে (১৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরেক শিশু পিয়াস বড়ুয়া (৫) গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামি তেজ বড়ুয়াকে (৪০) শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন তিনি। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৫ জুন) রাত সোয়া তিনটায় পটিয়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চানখালি খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়ার কাছে তেজ বড়ুয়ার ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা দেনা ছিল। এ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প বা লিখিত কাগজপত্র সুজনের ঘরেই রাখা ছিল। টাকার বিপরীতে তেজ নিয়মিত সুদ পরিশোধ করতেন। সেই কাগজপত্র চুরি করে দেনার প্রমাণ নষ্ট করার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে চুরির সময় সুজনের স্ত্রী এনি তাকে দেখে ফেলেন। এতে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তেজ প্রথমে এনিকে এবং পরে তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।
অভিযোগপত্রে পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, হাসপাতালের নথি এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্ত শেষ করা হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, এটি ছিল একটি চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পি/ডি