বিশ্বকাপ চলাকালেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি, লড়ছিলেন মৃত্যুর সঙ্গে। গেল শনিবার (০৮ আগস্ট) বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষবারের মতো বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ শহর রোজারিওতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের 'সানাতোরিও সেন্ট্রো' ক্লিনিকে মারা যান তিনি। তবে তার মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিওতে পৌঁছান মেসি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানরা।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানান, শেষবিদায়ের আয়োজনে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রিয় তারকার এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য মেসির বাবার মরদেহের সম্ভাব্য সমাধিস্থলে ইতোমধমদ্ধে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য ভক্ত।
ক্যারিয়ারের পুরো পথচলায় মেসিকে সমর্থন দিয়ে গেছেন তার বাবা। তাকে শেষবিদায় জানানো এবং শোকাহত পরিবারের পাশে থাকতে চান তিনি, বিশেষ করে মা সেলিয়ার পাশে।
শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর মেসির মায়ামিতে ফেরার কথা রয়েছে। তবে ক্লাব তার ফেরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। পরিবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সময় কাটানোর সুযোগই দেওয়া হবে তাকে।
এদিকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা এসেছে। মেসির সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, নিজ শহরের রোসারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
ফুটবলজীবনে মেসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলোর একজন ছিলেন হোর্হে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও ছেলের ক্যারিয়ারের পেছনে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পুরো ফুটবল বিশ্বে।
আর/আই