আন্তর্জাতিক

খামেনির জানাজার মিছিলটি ১০-১২ ঘণ্টা স্থায়ী হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোভাযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (০৬ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ থেকে মরদেহবাহী শোভাযাত্রা বের হয়।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রয়াত এই নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানীর রাজপথে নেমেছেন লাখো শোকাহত মানুষ। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশে পরিণত হতে পারে।

আইআরআইবি টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানায়, রাজধানীতে শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ নিয়ে জানাজার মিছিল কিছুক্ষণ আগে শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই শোভাযাত্রায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকেই শুরু হয়েছে এই রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি শেষ হতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ তেহরানের দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেন স্কয়ার, এনকেলাব স্ট্রিট, আজাদি স্ট্রিট, আজাদি স্কয়ার এবং মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের শহীদ লাশগরি মহাসড়ক অতিক্রম করবে।

এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন বহনকারী গাড়ি ইতোমধ্যে শোকাহত মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নির্ধারিত পথে প্রবেশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, তেহরানের রাস্তাজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে নজিরবিহীন শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শোভাযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। পরে ইরাকের কারবালা ও নাজাফে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার জন্মস্থান মাশহাদে নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

শোকমিছিলে অংশ নেওয়া বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার বহন করেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানারও দেখা যায়। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ‘প্রতিরোধ অক্ষের জন্য একটি সাফল্য’। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ জোটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। শেষ বিদায়ের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনকে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরছে তেহরান।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি #শোভাযাত্রা