বিশ্বকাপ জেতা হয়নি, ট্রফিও ওঠেনি হাতে। তবু দেশে ফিরেই নায়কোচিত সংবর্ধনা পেল কেপ ভার্দে ফুটবল দল। ৩২ দলের পর্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৩–২ গোলে হেরে বিদায় নিলেও, তাদের লড়াকু পারফরম্যান্স দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছে। তাই রোববার (০৫ জুলাই) দেশে ফেরার পর হাজার হাজার সমর্থক বীরের মতো স্বাগত জানান ফুটবলারদের।
রাজধানী প্রাইয়ার বিমানবন্দরে দলটির বিমান অবতরণ করার আগেই শত শত সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে ভিড় জমান। খেলোয়াড়দের একনজর দেখতে এবং তাদের অভিনন্দন জানাতে বিমানবন্দরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড়দের খোলা ছাদের একটি ট্রাকে করে কেব্রা ক্যানেলা সৈকতের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো পথজুড়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ করতালি, গান আর উচ্ছ্বাসে প্রিয় দলকে অভিনন্দন জানান। ৫ জুলাই কেপ ভার্দের স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় উদযাপনের আবহ আরও রঙিন হয়ে ওঠে।

সৈকতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের ফুটবলার এবং প্রধান কোচ বুবিস্তা ‘ওব্রিগাদো! কাবো ভার্দে’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ, কেপ ভার্দে’ লেখা বিশাল ব্যানারের সামনে সঙ্গীতের তালে নাচে-গানে অংশ নেন। মুহূর্তটি যেন পরিণত হয় এক ঐতিহাসিক বিজয় উৎসবে।
দলের গোলরক্ষক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় মুখ ভোজিনহা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাসভরে বলেন, “কেমন আছো, প্রাইয়া!” আর তার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত জনতার বজ্রধ্বনির মতো করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত মাত্র ১০টি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দের জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। অথচ এই শতাব্দীর শুরুর আগে দেশটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেই কখনো খেলেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ছিল ৬৭তম।
কিন্তু বিশ্বমঞ্চে এসে সবাইকে চমকে দেয় ‘ব্লু শার্কস’ নামে পরিচিত দলটি। গ্রুপ পর্বে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে ড্র করে তারা আলোচনায় উঠে আসে। এরপর ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয় কেপ ভার্দে।

স্বপ্নযাত্রার শেষটা আসে গত শুক্রবার মায়ামিতে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলেছিল তারা। টানটান উত্তেজনার সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলে হার মানতে হয়।
তবে সেই পরাজয়ও কেপ ভার্দের অর্জনকে ম্লান করতে পারেনি। বরং বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি হয়ে তারা জয় করেছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়। আর দেশে ফিরে যে অভ্যর্থনা তারা পেয়েছে, সেটাই প্রমাণ করে—কখনো কখনো ট্রফির চেয়েও বড় অর্জন হলো মানুষের ভালোবাসা।