খেলাধুলা

জন্মদিনের একদিন আগে না–ফেরার দেশে আফগান পেসার শাপুর জাদরান

স্পোর্টস ফিচার

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের ইতিহাসে যাদের অবদান কখনো ভোলার নয়, তাদের অন্যতম শাপুর জাদরান। গতি, আগ্রাসন আর অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা দিয়ে একসময় আফগানিস্তানের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেই লড়াকু ক্রিকেটারই এবার চিরবিদায় নিলেন।

দীর্ঘদিন বিরল ও জটিল রোগে ভোগার পর মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফগানিস্তানের সাবেক এই বাঁহাতি পেসার। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩৮ বছর। ৩৯তম জন্মদিনের ঠিক আগের দিনই না–ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।

শাপুর জাদরানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

এক শোকবার্তায় বোর্ড জানায়, গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে তারা আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামে বিরল ও জটিল এক রোগে ভুগছিলেন শাপুর। গত বছরের অক্টোবরে প্রথম তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়া হয়।

গত কয়েক মাস ধরে দিল্লির একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসায় প্রথম দিকে কিছুটা সাড়া মিললেও এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই আবারও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন আফগানিস্তানের এই সাবেক তারকা পেসার।

শাপুর জাদরান ছিলেন আফগান ক্রিকেটের পথিকৃৎ প্রজন্মের একজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থানের পেছনে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই সংস্করণেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। বাঁহাতি এই পেসার তার গতি, সুইং এবং আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন।

আফগানিস্তান যখন সহযোগী সদস্য থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছিল, তখন শাপুর ছিলেন সেই সংগ্রামী দলের অন্যতম প্রধান মুখ। তার মতো ক্রিকেটারদের হাত ধরেই আফগানিস্তান আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে জায়গা করে নেয়। পরবর্তীতে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি শক্তিতে পরিণত হওয়ার ভিত্তিও গড়ে ওঠে তাদের অবদানে।

মাঠে তার আগুনঝরা স্পেল, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নির্ভীক মনোভাব এবং দেশের জার্সির প্রতি অগাধ নিবেদন আফগান ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

একজন ক্রিকেটারের বিদায় হয়তো মাঠ থেকে হয়, কিন্তু কিছু ক্রিকেটার ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকেন। শাপুর জাদরান সেই ইতিহাসেরই একটি উজ্জ্বল নাম। আফগান ক্রিকেটের স্বপ্নযাত্রায় তার অবদান কখনো মুছে যাবে না।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #আফগানিস্তান #ক্রিকেট #শাপুর জাদরান