খেলাধুলা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির প্রথম লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক

আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ মাতাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেছেন দুই শতাধিক ম্যাচ। অসংখ্য প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামলেও একটি দলের বিপক্ষে কখনো খেলার সুযোগ হয়নি তার—ইংল্যান্ড। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায়, অর্থাৎ ১৬ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আর এই ম্যাচই হবে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে মেসির প্রথম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি।

অবাক করার মতো হলেও সত্যি, দুই দল সর্বশেষ একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তখন আর্জেন্টিনা দলে নতুন মুখ ছিলেন মেসি। কিন্তু ম্যাচটিতে খেলার সুযোগ হয়নি তার।

এর পেছনে ছিল এক তিক্ত স্মৃতি। ২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মেসির। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এক মিনিটও পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কনুই মারার অভিযোগে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২১ বছর। এই সময়ে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড আর কখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক।

যদিও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞতা নেই, ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে মেসির রেকর্ড ঈর্ষণীয়। বার্সেলোনা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের হয়ে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ৩৫ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। আর্সেনালের বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করার অনন্য কীর্তি যেমন আছে, তেমনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেও গোল করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই বরাবরই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এখন পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে তিনবার জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। একটি ম্যাচে জয় এসেছে আর্জেন্টিনার, আর ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোতে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

দুই দলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ ২০০২ সালে। সেবার ডেভিড বেকহামের পেনাল্টির একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে এই দ্বৈরথের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘ঈশ্বরের হাত’ গোল এবং পর মুহূর্তেই করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের চার দশক পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন মেসি।

সেমিফাইনালে ওঠার পথে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নরওয়ের বিপক্ষে একইভাবে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং জুড বেলিংহামের ইংল্যান্ড।

দুই ফুটবল পরাশক্তির এই মহারণে যেমন থাকবে ইতিহাসের আবহ, তেমনি থাকবে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগও। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে থাকবেন এমন একজন, যিনি দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন—লিওনেল মেসি।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #লিওনেল মেসি #আর্জেন্টিনা #ইংল্যান্ড #ফিফা #বিশ্বকাপ