জাতীয়

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর আজ

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ।  গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে  মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই।  ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় পাইলট, এক শিক্ষিকা এবং ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অনেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারী।

ট্র্যাজেডির প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

সোমবার (২০ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহপাঠীদের ভালোবাসা ও আবেগে দিনটি পালন করেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার(২১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া মাহফিল এবং বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ১০টা এবং বিকেল ৩টায়।

উল্লেখ্য,  দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দীর্ঘ সময় ধরে অনেকের চিকিৎসা চলে। চিকিৎসা শেষে বেশিরভাগই বাড়ি ফিরলেও অনেকের শরীরে এখনো পোড়া ক্ষতের দাগ এবং মনে রয়ে গেছে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি।

ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাস তদন্ত শেষে ১৫০ জনের সাক্ষ্য এবং ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ৩৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমানটি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পরে বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বাইরে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়নি। ভবনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে তদন্তে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

আহতদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্তর চিকিৎসা দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়া দীপ্তকে হাসপাতালে ৯৭ দিন চিকিৎসা নিতে হয়। এই সময়ে তার ৩৬টি অস্ত্রোপচার এবং আটবার স্কিন গ্রাফটিং করা হয়। একাধিকবার জীবনসংকটে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে।

দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে শুরুতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্বজন ও আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ২১ জুলাই এখনো গভীর শোকের দিন। অনেকেই শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেননি। হারানো প্রিয়জনের স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছে বহু পরিবার।

 

পি/ডি

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #মাইলস্টোন #ট্র্যাজেডি