তিতাস ডিস্ট্রিবিউশন মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দু'দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে নেত্রকোনায় জরুরি সেবা, পরিবহন, রেস্তোরাঁ সহ বসতবাড়ি রান্নায় দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নেত্রকোনা তিতাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি উপ প্রকৌশলী আশরাফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ সরেজমিনের শহরের কুরপাড়, নাগড়া, কাটলি সাতপাই সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, তিতাস গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবারে রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখন অনেকেই এলপিজি গ্যাস ও বিদ্যুতের চুলায় রান্না করছেন। আবার অনেকেই গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, আর সাময়িকভাবে হোটেল থেকে খাবার নিয়ে এসেছেন। এতে প্রভাব পড়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানে। এতে জনসেবা মূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের নাগড়া এলাকার গৃহবধূ লিজা আক্তার, মালনি এলাকার তাহমিদা ইসলাম ও সাতপাই এলাকার স্বপ্না রানী সরকার সহ অনেকেই বলেন, কিছু দিন ধরে গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু দুইদিন ধরে একেবারেই রান্না করা যাচ্ছে না। ছেলে মেয়েদের সময় মত খাবার দিতে পারছি না, স্কুলেও যেতে চাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস স্বাভাবিক হওয়া দরকার।
সিএনজি চালিত অটো রিকশা চালক মুজাম্মমেল হক বলেন, ‘বুধবার থেকে আমার গাড়িতে গ্যাস নাই। দ্রুত গ্যাস লাইন ঠিক করা দরকার। তা না হলে পরিবারের লোকজন না খেয়ে থাকবে। গাড়ির কিস্তির টাকা দিতে হবে’।
মেসার্স এ আর খান পাঠান সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী বোরহান কবির বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় স্টেশন বন্ধ রয়েছে। চালকরা গ্যাস নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে। একই সাথে তারা হতাশা ব্যক্ত করছে।
নেত্রকোনা তিতাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি উপ প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের লাইনে সমস্যা হয়েছে। মেরামত কাজ করছে। দু'একদিনের মধ্যে গ্যাস স্বাভাবিক হবে।
প্রসঙ্গত, মহেশখালি এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০এমএমসিএফডি কমে যায়। এতে প্রভাব পড়েছে তিতাসের আওতাধীন সব এলাকায়। জেলায় ৫হাজার ৬০০ গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে একটি সিএনজি স্টেশন, ২৪টি বাণিজ্যিক, ৩৪টি মিটারযুক্ত আবাসিক সংযোগ রয়েছে।
আই/এ