আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে নত করা যাবে না: ইসমাইল বাঘাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও স্থল অবরোধের পরিকল্পনা কোনোভাবেই ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন পদক্ষেপের কোনো প্রভাব তেহরানের নীতিতে পড়বে না।

বাঘাই অভিযোগ করেন, ১৯৫৩ সালে ইরানে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, চাপ, বৈষম্য ও নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিক নীতি অনুসরণ করে আসছে। বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতিও ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, ইরানের জনগণের জন্য ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে দেশটির ওপর চাপ তৈরিতে সম্ভাব্য সব পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একপর্যায়ে ওয়াশিংটন ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের’ পথ বেছে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাঘাই বলেন, অতীতে যেসব পদ্ধতি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেও ফল পাওয়া যায়নি, সেগুলো আবার প্রয়োগ করলেও এবার ভিন্ন কোনো ফল আসবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি ও সাম্প্রতিক হামলার কারণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

বাঘাইয়ের মতে, এই ক্ষতির আর্থিক মূল্য ট্রিলিয়ন ডলারের সমান।

তিনি বলেন, পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি শুধু সাম্প্রতিক কয়েক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গত পাঁচ দশক ধরে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র মোতায়েন, সামরিক মহড়া ও বিভিন্ন সংঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের মূল কারণ মধ্যস্থতাকারীর অভাব নয় বলে জানিয়েছেন বাঘাই। পাকিস্তান ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগে উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ইউরোপের কয়েকটি দেশও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিতে পারে। তবে এসব উদ্যোগকে নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী গ্রহণের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না তেহরান।

বাঘাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব, নীতিগত অবস্থান এবং বারবার ব্যর্থ প্রমাণিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করাই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের মূল কারণ।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ওমানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইরান। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ওমানের সঙ্গে সামুদ্রিক চলাচলের নতুন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে।

ইরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় একদিকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে, অন্যদিকে ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

এরই মধ্যে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের সময়সীমাকেও অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।

বাঘাই বলেন, ওই সমঝোতা স্মারকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তা গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করায় ওই সময়সীমার আর কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই।

তিনি আরও বলেন, ইরান কোনো চাপ, চরমপত্র বা নির্ধারিত সময়সীমার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে না।

সূত্র: আল জাজিরা

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #মার্কিন নিষেধাজ্ঞা #তেহরান #হরমুজ প্রণালি #ইরান