নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। প্রবল স্রোতে কয়েকটি গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি সড়ক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পার্বত্য জেলা রাসুয়ার স্যাপ্রু বেসি ও তিমুর এলাকায় হঠাৎ বন্যা শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এ ঘটনায় ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ২৯১ জন পর্যটক রয়েছেন।
তবে দুর্গত এলাকায় পানির উচ্চতা ও স্রোত বেশি থাকায় হেলিকপ্টার নামতে পারছে না। রাসুয়ার জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, সেখানে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এখনো প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি।
কোশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রবল স্রোতে কয়েকটি গ্রাম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে পাহাড়ি উপত্যকার মধ্য দিয়ে কাদামিশ্রিত পানির তীব্র স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। আকস্মিকভাবে বন্যা শুরু হওয়ায় অনেক বাসিন্দা নিরাপদে সরে যাওয়ারও সুযোগ পাননি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠক করে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদেরও দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
নেপালের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহ থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে এ বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তাদের ধারণা, ধসের কারণে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএ//