মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় স্বার্থে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কারও অস্বস্তিতে ভোগার কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান শফিকুর রহমান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে দেশের নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জনগণের প্রয়োজন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে অন্য কারও অস্বস্তি বোধ করার প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতও দেখা দিয়েছে।
গেল ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় এক বছর আলোচনার পর মক্কায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়।
চুক্তির মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো, জোটভুক্ত কোনো দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে অন্য দুই দেশ সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। এর মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এরই মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী এবং বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হলে একদিকে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে দেশের সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তাও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসি//