নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৬২৬ পৌঁছেছে এবং এখনো প্রায় দুই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৬২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন, যার মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।
বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য কাজ করে যাচ্ছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৩৬টি দেশের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ ১৮৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, ইউক্রেনের ৬২ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিকের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।
ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থিত চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত, যেখানে হিন্দু ধর্মে পবিত্র বিবেচিত কৈলাস মানস সরোবর অবস্থিত। ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। মূলত এ কারণেই এক স্থানে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার সকালে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে নেপালের রাসুয়া অঞ্চল। এ সময় ত্রিশূলি, নারায়নি ও ভোটকোশি নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ কাদামাটি ও পাথর। এই প্রমত্তা ঢলের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এটি ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ পথের সমস্ত অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধূলিস্যাৎ করে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে নেপালের পাশাপাশি তিব্বত অঞ্চলেও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত ৫৫৪ জন।
আর/আই