রাজধানীতে ছিনতাইকারীর টানে বগুড়ার এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনার এক দিন না যেতেই এবার রাজশাহীতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা। হাঁটতে বের হয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ব্যাগ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপক। ব্যাগের সঙ্গে খোয়া গেছে আইফোন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম ড. কাজী শুসমিন আফসানা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
ঘটনার পরপরই চন্দ্রিমা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ড. কাজী শুসমিন আফসানা জানান, রোববার সন্ধ্যার পর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে হাঁটতে বের হলে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। ব্যাগটিতে একটি আইফোনের পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ছিল। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওই শিক্ষিকা আরও জানান, তিনি শক্তিশালী ক্রসবেল্ট ব্যাগ ব্যবহার করছিলেন, যা হঠাৎ করে টেনে নিয়ে যাওয়া সহজ নয়। এ কারণে তার ধারণা, ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল এবং পরিকল্পনা করেই ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়।
ছিনতাই হওয়া আইফোনের নিরাপত্তা নিয়েও পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সতর্ক করেছেন তিনি।
তার আশঙ্কা, দুর্বৃত্তরা কোনোভাবে ফোনটি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কারও কাছে টাকা চাইতে পারে কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠাতে পারে।
গণমাধ্যমকে ড. কাজী শুসমিন আফসানা জানান, ছিনতাইয়ের পরপরই থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করছে। তার আইফোনটি ল্যাপটপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় ফোনটি নিয়ে ছিনতাইকারীরা কোথায় যাচ্ছে, সেই অবস্থানও তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, রাতেই ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেই লোকেশন ধরে পেছনে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জায়গাটি নির্জন ও অপরিচিত হওয়ায় বেশি দূর এগোনো সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।
চলন্ত রিকশায় থাকা রনজিনা পারভীনের ব্যাগ মোটরসাইকেলে থাকা এক ছিনতাইকারী টান দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাজধানীতে ওই ঘটনার পরদিনই রাজশাহীতে আরেক শিক্ষিকার সঙ্গে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এসি//