নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির বন্যাকবলিত বিদুর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪টি মরদেহ। এর মধ্যে একজন শিশু এবং বাকি ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি জানান, উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। ওই এলাকায় মাটির নিচে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
বেত্রাবতী পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তামাং জানান, উদ্ধার হওয়া ২৪ মরদেহের মধ্যে ছয়টি হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। অন্য মরদেহগুলো এখনো ঘটনাস্থলেই রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোও কাঠমান্ডুতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের বাড়িগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটির নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে কাদামাটির নিচে চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সোমবার থেকে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরাও ছুটছেন বিভিন্ন এলাকায়।
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯৫০ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি।
নেপালের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল জানিয়েছে, দেশটির রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যায় ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ৯০০ শ্রমিকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
এসি//