সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ একাডেমিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অর্জন, স্মৃতি ও সাফল্যকে উদযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন এটি। কিন্তু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো গ্র্যাজুয়েটের জন্য সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত এখনো অধরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হতে চললেও এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একটি সমাবর্তন। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় সমাবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র সমাবর্তনে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ব্যাচের ১ হাজার ৩৯৯ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। এ সময় ২৯ জন শিক্ষার্থীকে মোট ৩২টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক। এর মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন বহু ব্যাচের শিক্ষার্থী। ফলে প্রতি বছরই সমাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
প্রথম সমাবর্তন নিয়েও ছিল নানা আলোচনা ও সমালোচনা। সমাবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের সনদপত্রে বিভিন্ন ভুলভ্রান্তির অভিযোগ ওঠে। পরে সংশোধিত সনদ প্রদান করা হলেও নতুন নকশার সনদ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে প্রথম সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও এর কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হায়দার আলী খান বলেন, একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা, সমাবর্তন যেন আর দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয় না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণের স্থান নয়, শিক্ষার্থীদের অর্জনকে মর্যাদা দেওয়ারও জায়গা। তাই প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরই সমাবর্তনের সেই গর্বের মুহূর্ত পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হতে চললেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় সমাবর্তনের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। বর্তমান উপাচার্য এ বিষয়ে আন্তরিক ও আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শিগগিরই একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
তিনি আরও বলেন, সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে। তাই দ্রুত দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা। তবে এ ধরনের আয়োজন ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এর সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও সাংগঠনিক বিষয় জড়িত। লোকবল ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় সমাবর্তনটি জাঁকজমকপূর্ণ ও স্মরণীয় করে আয়োজন করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশে কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের একত্র করা গেলে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গৌরবের উপলক্ষ হয়ে উঠবে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
আই/এ