ক্যাম্পাস

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষে ১৯ বহিরাগত অস্ত্রধারী শনাক্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ক্যাম্পাসে অস্ত্রসহ বহিরাগতদের মহড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত শনিবার (৫ আগস্ট) সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারী বহিরাগতকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন

চিহ্নিত অস্ত্রধারীদের মধ্যে রয়েছেন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার, রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসুল (পদমদি) এবং মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)

তবে অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপিকর্মী মানওয়ার দাবি করেন, সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত উস্কানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম। সেখানে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না। আমি সবাইকে চিনি না।

এ বিষয়ে কথা বলতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বহিরাগত আনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ জানান, বিষয়টি তারা জানেন না, তবে বিক্ষুব্ধ জনতা আসতে পারে

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, অস্ত্রধারী বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, গতকাল রাত থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়েছে। আজ নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইসলামী বিশ্ববিদ্যাল #ছাত্রদল #ছাত্রশিবির #সংঘর্ষ