দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর থেকে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। প্রথমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহ রোববার রাতে থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখাতে প্রয়োজনীয় কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দেখছেন। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রিমান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এখনো রিমান্ডের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনের লোকজন। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসি//