আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করা হবে- এ নিয়ে তাকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানান তিনি।

ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের মধ্যেই জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে এ আলোচনা হয়। বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। উভয় পক্ষের মধ্যে শিগগিরই আরও আলোচনা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

জাতিসংঘের বক্তব্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও সামনে আসে।

বিশ্বায়নের ধারণার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, কোনো বৈশ্বিক সরকার নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার প্রস্তাবও দেন তিনি। প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হবে না।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং বিভিন্ন আরব দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ট্রাম্প। অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা বিভাজন নিয়ে সতর্ক করেন। তার মেয়াদের শেষ পর্যায়ের এই বক্তব্যে তিনি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বক্তব্যে কিউবার সরকারের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কিউবার প্রতিনিধিদল তার বক্তব্যের একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #ডোনাল্ড ট্রাম্প #জাতিসংঘ