আন্তর্জাতিক

নার্সিংহোমের টয়লেটে প্রসবের পরপরই জানালা দিয়ে নবজাতককে ফেলে দিলেন মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সন্তান প্রসবের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নবজাতককে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। মাটিতে পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নবজাতক কন্যাশিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (০৭ নভেম্বর) সকালে উত্তরপাড়া পুরসভা এলাকার ওই নার্সিংহোমে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

উত্তরপাড়া থানার এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে উত্তরপাড়া পুরসভা পরিচালিত নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শনিবার সকালে ব্যথা বেড়ে গেলে কিশোরী নিজেই হেঁটে নার্সিংহোমের টয়লেটে যায়। সেখানে কারও সহায়তা ছাড়াই একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয় সে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের পরপরই নবজাতককে টয়লেটের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় কিশোরী।

কিছুক্ষণ পর নার্সিংহোমের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন এক পথচারী। তিনি দ্রুত বিষয়টি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে একজন নার্স ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ভেতরে নিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা ছিল—এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে তার পরিবার।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, সাধারণ পেটে ব্যথার চিকিৎসা করাতেই মেয়েকে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। তবে পরিবারের এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।

নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, শুক্রবার গভীর রাতে কিশোরীকে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে তার রক্ত পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে পেটের ব্যথা তীব্র হলে সে নিজেই হেঁটে টয়লেটে যায়। সেখানে কারও কোনো সাহায্য ছাড়াই সে সন্তান প্রসব করে এবং প্রসবের পরই নবজাতকটিকে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়।’

সুচেতা মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, কিশোরীকে ভর্তির সময় নার্সিংহোমের কর্মীরা তার পরিবারের সদস্যদের কাছে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা কি না, তা একাধিকবার জানতে চেয়েছিলেন। তবে স্বজনেরা বিষয়টি অস্বীকার করে এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছিলেন।

কিশোরীর মা-ও মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না বলে দাবি করেছেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়ে যে গর্ভবতী ছিল, সে বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। গত সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কথা বলায় আমরা তাকে নার্সিংহোমে এনে ভর্তি করি। আজ সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন পাওয়ার পরই আমরা পুরো ঘটনাটি জানতে পারি।’

ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কী পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে নার্সিংহোমের সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণ করা ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোরীর বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে, নার্সিংহোমটিতে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শঙ্খ শুভ্র ব্যানার্জি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটে। এর আগেও নার্সিংহোম চত্বর থেকে একটি ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ভারত #নার্সিংহোম #নবজাতক