আন্তর্জাতিক

ডিজেলের মজুত ছাড়তে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, রপ্তানি বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বাড়তে থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের মজুতের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ও বিবেচনা করছেন তিনি।

শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। দেশটির ডিজেল আমদানির বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। ফলে ওয়াশিংটন রপ্তানি কমিয়ে দিলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়তে বলবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো তা করতে বলতে পারি। তাদের কিছু ডিজেল মজুত আছে।’

এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপকে দ্রুত তাদের মজুতের কিছু ডিজেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, জ্বালানির বাড়তি দামের পুরো চাপ যেন মার্কিন কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর না পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে ডিজেলের অন্যতম বড় সরবরাহকারী। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে।

সম্ভাব্য মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করছে। এ বিষয়ে শুক্রবার ইউরোপীয় পর্যায়েও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যসহ সদস্য দেশগুলোকে অন্তত ৯০ দিনের নিট তেল আমদানির সমপরিমাণ মজুত রাখতে হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মে সদস্য দেশগুলোর অন্তত ৬১ দিনের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের সমপরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর কাছে মোট প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টন জরুরি অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডিজেল ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি পণ্য।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ট্রাম্প #ইউরোপ