সৌদি আরবে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এদিকে কোন কিছু না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় ক্ষোভ জানিয়েছে নজরুলের পরিবার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুলতানাপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে নজরলের বাড়িতে গেলে এ প্রতিবেদকের কাছে খোঁজ জানান তার পরিবারের সদস্যরা।ওই গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির ৪ সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুল।
পরিবারের অভিযোগ, না জানিয়ে গেল ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুলের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। নজরুল ইসলাম এসএসসি পাশ করে পরিবারের হাল ধরতে ২০২২ সালে সৌদি আরবে যান। সেখানের মক্কা নগরীর হেরাম শরীফে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ পান। সাত মাস পর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ছয় মাস পরে হঠাৎ একদিন নজরুল জেলখানা থেকে ফোন দিয়ে জানায় সে কারাগারে বন্দি। তবে কি কারনে বন্দি সে বিষয়টি নজরুল নিজে ও জানে না।
গেল রোববার (১১ অক্টোবর) সর্বশেষ নজরুলের সাথে কথা হয় পরিবারের। পরে গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন বুধবার ১৪ অক্টোবর নজরুলের মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, তিন বছরের বেশী সময় সেখানে আটক থাকার পর গেল বুধবার ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা পরিবারকে না জানিয়ে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। তাদের সন্তান বিয়ে করেনি বলেও জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় মৃত্যুদন্ডের কার্যকরের আগে নজরুল ইসলামকে আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কি ছিল তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নজরুলের বাবা-মা।
এদিকে নজরুলে মৃত্যুর খবরে শোক সইতে না পেরে সেদিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। এমন করুন পরিনতিতে গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসীরা শোর্কাত মা-বাবার পাশে থাকতে তার বাড়িতে ভীড় করছে।
স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন মৃত্যুদন্ড মেনে নেয়া যায় না। তারা মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত নজরুল ইসলামের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার দাবী জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ সাঈদ জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায় নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
আই/এ