অন্যান্য

আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা জামায়াত-এনসিপির সহ্য হচ্ছে না: আমজনতার তারেক

বায়ান্ন প্রতিবেদন

নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ায় জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহ্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। একই সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে তার বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তার দাবি, এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তারেক রহমান।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত-এনসিপি তাকে হেয় করতে করতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তার সামান্য রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও সহ্য করতে পারছে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁপাচ্ছে জিহ্বাটা বের করে।’

নিজের রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগকেই জীবিকা ও চলার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। তিনিও কিছুদিন প্রবাসীদের দেওয়া অর্থে খাবার, গাড়িভাড়া ও বাসাভাড়া মিটিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তবে ওই নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চেয়েছেন জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে ফল ও মধুর ব্যবসাও করেছেন। নিজের চেষ্টায় খাবার ও বাসাভাড়ার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা যদি অযোগ্যতার কারণ হয়, তাহলে আর কী করার আছে।’

রাজনৈতিক আন্দোলনে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার অতটা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু যখন সুযোগ পেয়েছি আল্লাহর হাতে জান সঁপে দিয়ে ইফোর্ট দিয়েছি মুক্তির লড়াইয়ে।’

২০১৮ সালের ধারালো ফলার মতো লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের জনপ্রিয় লিফলেট নিজের হাতে তৈরি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পোস্টে নিজের আটক, গুম ও রিমান্ডের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন আমজনতার দলের এই নেতা।

তার দাবি, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথমবার আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই দ্বিতীয়বার গুম হন। পরে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের হাতে আটক হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে ছিলেন বলে জানান তিনি।

এসব অভিজ্ঞতার বাইরে আরও বেশি কিছু করার সুযোগ পাননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে নিজের বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না তারেক রহমান।

তিনি লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধকে সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বড় লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে চায়। বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পর তারা ভারতের কাছে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ভারতের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিল এবং ভারতও সাড়া দিয়েছিল।

এরপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয় বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তার অভিযোগ, ধরা পড়ার পর জামায়াতের আমির বিষয়টি স্বীকার করেন। এবার ‘র’-এর সঙ্গে নতুন করে গোলাম পরওয়ারের বৈঠক হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান লেখেন, ‘৮ মাস হয়নি সরকারের, শকুনের দল অস্থির হয়ে গেছে ক্ষমতার জন্য।’

বিএনপির কারও পদায়নে জামায়াত খুশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে বারবার খোঁজ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ কথাটি ব্যবহার করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

নিজের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনায় বিচলিত নন জানিয়ে তারেক রহমান জুলাইয়ের মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি লেখেন, ‘জামিনে থাকার সময় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। আর আমি এদের হয়রানিতে একদম বিচলিত না। আজ একটা দাবি জানাই, জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা যদি জেলে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে তাকে যেন জামিন দেন আদালত। পরবর্তীতে জামিনে থাকাকালে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করবে।’

তারেক রহমানের মতে, ‘এটাই জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একমাত্র উপায়।’

পোস্টের শেষাংশে বাংলাদেশপন্থি দল, বিদেশে শাখা নেই এমন জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে তাকে সঙ্গে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসা জানান তারেক রহমান।

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #আম তারেক #এনসিপি #তারেক রহমান #জাপান